অনলাইনে কাজ করতে হলে যেসব দক্ষতা দরকার

অনলাইনে কাজ করা বা ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটা শুনতে বেশ মজাদার শোনায়। আপনি কিছু না জেনে বা না করে ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন না। সমস্ত ফ্রিল্যান্সারদের অনলাইনে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট দক্ষতা থাকা উচিত। সকল ফ্রিল্যান্সার এর মধ্যে এই আটিকেলে উল্লেখিত গুনগুলো থাকা অত্যাবশ্যক।
যেকোন ফ্রিল্যান্সারের তাদের মূল কাজ ছাড়াও অন্যান্য অনেক দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে কাজ করতে হলে বা ফ্রিল্যান্সিং যেসব দক্ষতা দরকার সেই সব সম্পর্কে।

স্ব-শিক্ষা

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য, নিজের শেখার আবেগ এবং ইচ্ছা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন চাকুরীজীবীকে প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কোর্স করানো হয় ও দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা হয়, কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিজের মোটিভেশন ব্যবহার করে নতুন জিনিস শিখে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হয়। ইতিমধ্যে থাকা কোনো দক্ষতাকে বাড়ানো হোক কিংবা নিজের কাজকে আরো ভালো করতে নতুন দক্ষতা শেখানো, উভয় ক্ষেত্রেই নতুন কিছু শিখতে নিজেকে মোটিভেট করতে হয়। একজন ফ্রিল্যান্সার বই পড়ে, ভিডিও দেখে, কোর্স নেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেকে একটি বিষয়ে শিক্ষিত করতে পারেন।

সময় ব্যবস্থাপনা

যদিও একজন ফ্রিল্যান্সারকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় না, তবুও জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সময় ব্যবস্থাপনা শিখতে হবে। হেলায় ফেলায় সময় নষ্ট করে কাজকে পিছিয়ে নেওয়ার বাজে অভ্যাস অনেক ফ্রিল্যান্সারের রয়েছে যা এড়িয়ে চলতে পারলে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটুকুই এগিয়ে থাকা যায়। তাই একজন ফ্রিল্যান্সারের উচিত সময় ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না করে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি যত বেশি সুশৃঙ্খল হবেন, আপনার কাজের মানের সাথে সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তত সহজ হবে।

যৌক্তিক বিশ্লেষণ

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাকে ক্লায়েন্টের কাছে আপনার কাজ বর্ণনা করতে হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ক্লায়েন্ট জানতে চাইলে আপনাকে ঠিকঠাকভাবে এসব বিষয় বুঝিয়ে দিতে হবে। আবার আপনার পেমেন্ট বাকি থাকলে সে সম্পর্কে ভলো ভাবে ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে আদায় করে নিতে হবে। আপনি যদি আপনার ক্লায়েন্টের সাথে ঠিকভাবে কথা বলে নিজের পাওনা আদায় করতে না পারেন বা নিজের কোনো কাজের কারণ বুঝিয়ে দিতে না পারেন তবে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পিছিয়ে পড়বেন। যৌক্তিক বিশ্লেষণে যদি আপনি দক্ষ হন, তাহলে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের সাথে আপনার সম্পর্ক উন্নত করার পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

দ্রুত চিন্তা

যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও দ্রুত চিন্তা, এই দুইটি বিষয় একইসাথে কাজ করে। শুধুমাত্র ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলা নয়, নিজের কাজের প্রোডাক্টিভ ফ্লো চালু রাখতে অবশ্যই দ্রুত চিন্তা করার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। আপনি যত দ্রুত চিন্তা করতে পারবেন, তত দ্রুত আপনি রিসার্চ করতে পারবেন এবং সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

এছাড়াও মনে রাখবেন কোনো কাজ দ্রুত করার জন্য আপনি অতিরিক্ত পেমেন্ট চার্জ করতে পারবেন। এতে ক্লায়েন্টের সময় বাঁচবে, আপনিও সময়ের পাশাপাশি বেশি অর্থ ইনকাম করতে পারবেন। আপনার কাজ দ্রুত হলে গিগ বাদ দিয়ে ঘন্টা-প্রতি কাজ করতে পারবেন।

সমস্যা সমাধান

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার কাজ হলো ক্লায়েন্টের সমস্যা বুঝে তার সমাধান খুঁজে বের করা। ক্লায়েন্ট যদি সমস্যার কথা ইতিমধ্যে জানে তাহলে আপনার জন্য কাজ সহজ হয়ে গেলো, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটে উল্টোটা।

অধিকাংশ সময়ে আপনাকে সমস্যা কি তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি এর সমাধানও খুঁজে বের করতে হবে। আপনার জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকে তাহলে অন্যান্য ফ্রিল্যান্সার থেকে এই দিক দিয়ে এগিয়ে থাকতে পারবেন।

সমালোচনা গ্রহণ

স্বশিক্ষা দারুণ একটি সুযোগ নতুন কিছু শেখার, তবে সমালোচনা থেকেও কিন্তু অধিক ভালো শিক্ষা পাওয়া যায় যা অধিকাংশ সময় ক্লায়েন্ট থেকে আসে। আপনি যদি যথেষ্ট গবেষণা করতে ভুলে যান বা ক্লায়েন্টের বর্ণিত নিয়মে কাজ সম্পন্ন না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ক্লায়েন্ট আপনার সমালোচনা করবে ও আপনাকেও তা গ্রহণ করার মানসিকতা রাখতে হবে যা থেকে শিখবেন। তবে খেয়াল রাখবেন ক্লায়েন্ট যেন অকারণে আপনার সমালোচনা বা অপমান না করে, এটা একেবারেই সহ্য করা উচিত নয়।

অভিযোজনযোগ্যতা

এডাপ্টিবিলিটি বা অভিযোজনযোগ্যতা একজন ফ্রিল্যান্সারের আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হতে পারে। উদাহরণস্বরুপঃ কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অধিকাংশ ফ্যাশন আউটলেট ও ট্যুর কোম্পানি ব্যবসায় পিছিয়ে গেলেও ই-কমার্স কিন্তু ঠিকই জমিয়ে ব্যবসা করেছে।

এখানে মূল বিষয় হলো বর্তমান অর্থনীতিতে টাকা কোথায় আছে তা বুঝতে হবে। শুধু আপনার প্যাশন বা যা পারেন তা নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে আর্থিক দুর্দশায় পড়তে পারেন একজন ফ্রিল্যান্সার। তাই একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে উচিত ইন্ডাস্ট্রির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে উন্নত করা।

উচ্চ-ঝুঁকি সহনশীলতা

ক্যারিয়ার চয়েজ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং অনেক ঝুঁকিপূর্ণ – এই বিষয় কারো কাছেই অজানা নয়। আপনার কাছে ক্লায়েন্টের সাথে দীর্ঘমেয়াদী কন্ট্রাক্ট না থাকলে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করা সবসময় একটি চ্যালেঞ্জ হবে। কিছু সময় প্রচুর কাজ পেলেও আবার মাঝেমধ্যে যথেষ্ট কাজ পেতেও বেগ পেতে হতে পারে।

একজন ফ্রিল্যান্সার কিন্তু কোনো ধরনের পেইড লিভ বা ভ্যাকেশন এর সুযোগ পান না। তাই অবশ্যই একজন ফ্রিল্যান্সারকে তার সমস্ত আর্থিক, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

আর্থিক সাক্ষরতা

একজন ফ্রিল্যান্সার হতে হলে অবশ্যই কর, বাজেট, মুদ্রাস্ফীতি, অবচয়, সুযোগ খরচ, অর্থের সময় মূল্য, ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। যে কোনো ব্যবসার মতোই, একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য এই আর্থিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে যত বেশিই আয় হোক না কেনো, ঠিকই তা সহজে নিঃশেষ হয়ে যাবে।

বেশ কিছু কঠিন শব্দ দ্বারা একজন ফ্রিল্যান্সার বা অনলাইনে কাজ করার জন্য দক্ষতার বিবরণ দেওয়া হলেও বিষয়গুলো বেশ সহজ কিন্তু। উল্লেখিত সাধারণ গুনগুলো না থাকলে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। তাই একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে অবশ্যই উল্লেখিত বিষয়ে নিজেকে পারদর্শী করার চেষ্টা করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জরিপ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url